তাদের কাঁধেও ১ লক্ষ টাকা ঋনের বোঝা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

0
নেপালকে হারিয়ে টানা ২য় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন বাংলার বাঘিনীরা তাদের নিয়ে দুটি কথা।
১। ২০১৫ সালে একটি সংবাদমাধ্যম কলসিন্দুর গ্রামে যায় প্রামাণ্য ছবির শুটিং করতে, ওই সময় অনুর্ধ ১৬ জাতীয় দলে কল সিন্দুর স্কুলের ১০ জন খেলতেন, যাদের ৫ জন আজ খেলে সাফ ফুটবল শিরোপা জিতেছেন। তখন সেই সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে সেই কিশোরীদের জিজ্ঞেস করা হয়,
তোমরা কী চাও?
আমরা একবেলা পেট ভরে খেতে চাই।
আরও বেশি কিছু চাও?
বেশি করে খাবার দেন। বাড়ি নিয়ে যাব। ভাইবোনদের সঙ্গে নিয়ে খাব।
ভাবুন তো! জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা বলছে আমরা একবেলা পেট ভরে খেতে চাই। এমন অর্ধাহারে অনাহারে অপুষ্টিতে ভোগা মেয়েরাই আজ আবার জাতীর মুখ উজ্জ্বল করলো।
২। ২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। ওই খেলার আগে সানজিদা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন, ‘পাহাড়ের কাছাকাছি স্থানে বাড়ি আমার। পাহাড়ি ভাইবোনদের লড়াকু মানসিকতা, গ্রাম বাংলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের হার না মানা জীবনের প্রতি পরতে খুব কাছাকাছি থেকে দেখা আমার। ফাইনালে আমরা একজন ফুটবলারের চরিত্রে মাঠে লড়বো এমন নয়, এগারোজনের যোদ্ধাদল মাঠে থাকবে, যে দলের অনেকে এই পর্যন্ত এসেছে বাবাকে হারিয়ে, মায়ের শেষ সম্বল নিয়ে, বোনের অলংকার বিক্রি করে, অনেকে পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন হয়ে।’
এটাই কিন্তু বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আসল ছবি। অথচ দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো তাদের কাঁধেও ১ লক্ষ টাকা ঋনের বোঝা।
সুজা/১০/২৪
Leave A Reply

Your email address will not be published.