বাড়ছে টিকটক-লাইকি আসক্তি

0

শুটিং হচ্ছে। রাস্তায়, ছাদে। যত্রতত্র। এমনকি বাসায়, বারান্দায় বসে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ভিডিও। বিভিন্ন গানের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে নিজের অঙ্গভঙ্গি। ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপে এসব আপলোড করা হচ্ছে। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। অলস সময় কাটানো মানুষ তা দেখছেন।
মানহীন এসব ভিডিওতে বিপথগামী হচ্ছেন অনেকে। রাতারাতি জনপ্রিয় হতে ও অর্থ উপার্জনের জন্য ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, লাইকি ও বিগোর মতো ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ বেছে নিচ্ছে শিশু, কিশোর ও তরুণরা। আর এসবকে কেন্দ্র করে সংসার ভাঙছে। আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এমনকি ঘটছে হত্যাকাণ্ডও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অ্যাপের জন্য ভিডিও তৈরি এক ধরনের নেশা। এই নেশা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদকের চেয়ে ভয়াবহ। ভার্চ্যুয়াল এই নেশায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছেন।
করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোন কোন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বেশিরভাগ সময়েই অবসর সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। আর এই অবসরে ইউটিউব, টিকটক, লাইকি কিংবা বিগোর মতো প্ল্যাটফর্মে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক উপস্থিতির সুযোগ না থাকায় অবসরে একরকম অলস সময় পার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একই সাথে অন্যান্য সহপাঠী বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে স্বাভাবিক কিংবা অন্যান্য সহ-পাঠ্যক্রমের কাজগুলো করতে পারছে না। এই সুযোগে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, লাইকি ও বিগো’র মতো প্ল্যাটফর্মে। একটি সমীক্ষা বলছে, করোনার এই সময়ে এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিনগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সাথে বিশ্বজুড়ে ভিডিও কন্টেন্ট নির্মাতা বাড়াতে এসব ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ নানান অফারও দিয়ে আসছে। আর সেসব অফারে থাকছে নগদ অর্থ উপার্জনের সুযোগ। এছাড়াও সময় কাটানো, বিনোদন এবং অর্থ আয়ের পাশাপাশি এসব প্ল্যাটফর্মে চলে ভার্চুয়াল খ্যাতি অর্জনের এক অশুভ প্রতিযোগিতা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অত্যন্ত ক্ষতিকর টিকটক, লাইকি ও বিগোর মতো অ্যাপ অচিরেই বন্ধ করা না হলে শিশু, কিশোর ও তরুণদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই সময় এসেছে এখনই এসব ক্ষতিকর অ্যাপ বন্ধ করার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.